গাড়ির ভেতর হিমঘর
মর্গের চেয়েও ঠান্ডা।
আনন্দ, দুঃখ, কোলাহল
কাঁচে ধাক্কা, ফিরে যায় উৎসমুখে।

এ এক অনন্ত মায়াবী স্বেচ্ছা নির্বাসন।

ট্রাফিক সিগন্যালের হিজড়ে কমলা,
পা-নেই-নন্দলাল,
গোলাপের তোড়া হাতে রাইকিশোরী,
দৃশ্য থেকে দৃশ‍্যান্তর;
দূর থেকে বোবা-বায়োস্কোপ
দেখি, দেখতে থাকি
দেখেও দেখি না।

ওপারে রোদ ওঠে, বৃষ্টি নামে
মন-কেমনের হাওয়া দেয়,
বিকেল-মেঘ ছুঁয়ে যায়
নীললোহিতের ক্লান্ত বিষণ্ণ চোখ,

মালতী বুকে তুলে নেয় বাচ্চাটাকে,
ফুটপাতে উড়ে পড়া শিউলিগুলো
কবিতা আঁকে, মুগ্ধতায়

আকাশের লাল মেখে
হেসে ওঠে পাগলা জগাই,
রাস্তা পার হতে গিয়ে সিগন্যাল হারায়
আশি পেরনো অমলকান্তি

কতকিছু হয়ে চলে,
বয়ে চলে জানলার গা ঘেঁষে..
এপাশে সময় থমকে,
নির্লিপ্ত, অদ্ভুত আঁধার এক!

চিমটি কেটে দেখতে ইচ্ছে করে
মরে, ঠাণ্ডা হয়ে যাইনি তো?

হিমঘরে একা
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments