সেদিন ছিল পূর্ণিমা, তীব্র আলোর স্রোত।
ঢেকেছিল তারাখসার স্নিগ্ধ যাত্রাপথ।

 

তাই বুঝিনি তোমায়, চিনিনি তোমায়!
যেমন পূজো-ফাংশনের নকল আলোয়
দেবীর মুখ উজ্জ্বলতা হারায়?

 

যেমন ভোটের বিজয়োৎসবে
বর্ণহীন আর্ত-পীড়িত গণতন্ত্র,
যেমন ক্লান্ত পৃথিবীতে
নতুন সূর্যোদয় নিতান্তই উপেক্ষিত?

 

রাস্তার আলোয় ঢাকে শীতল সন্ধ্যাতারা,
বিরিয়ানির ম‍্যহেক ভোলায় নতুন ধানের ঘ্রাণ।
গাঁদাফুলের বনে হারায় ছোট্ট গোলাপচারা।
ঝুটো কাঁচের বিচ্ছুরণে হীরের আকর ম্লান।

 

তুমি ছিলে নক্ষত্রলোকের নির্বাসিত তারা,
পরশপাথর;
তোমার ছোঁয়ায় চিরকুট হতো কবিতা,
জীবনমুখর।

 

দেবী, তুমিই ছিলে তেজ, তুমিই শক্তি,
অন্তরে অযুত নক্ষত্রের প্রকাশ,
স্নেহের বন্যা, মন-বন্দীর মুক্তি।

 

নির্বাসনের শেষে তুমি আবার ঊর্ধ্বগামী,
আলো করেছো দিব্যলোক,
শূন্য হয়েছি আমি।

 

আজকে দেখি অমাবস্যা, আকাশ শামিয়ানা,
গহিন আঁধার ভিড় করেছে ছোট্ট আলোর দানা।
তাদের মাঝে তোমায় খোঁজে আমার আর্দ্র চোখ,
ভোরের আলো ফোটার আগেই উল্কাবৃষ্টি হোক!

 

নির্বাসিত
  • 5.00 / 5 5
1 vote, 5.00 avg. rating (91% score)

Comments

comments