দশজনের মধ্যে আলাদা করে চোখে পড়নি কখনোই
মফস্বলের ছাপোষা মাস্টারমশাই যেমন হয়,
ঠিক ততটাই তুমি,
একটুও বেশি না, বা কম

কেউ তোমায় ভয় পায়নি কখনো,
তুমিই উল্টে ভয়ে ভয়ে কাটিয়ে দিলে
সারাটা জীবন,
আমাদের দুভাইবোনকেই বলনি কখনো
জোর গলায়, পড়তে বোস!

মায়ের সাথে ঝগড়াও একতরফাই,
মিনমিন করে দু এক কথার পর
হাল ছেড়ে বাঁচতে যেন…
আমদের দিকে তাকিয়ে টিপতে চোখ।
ভাবখানা এমন, আমার কি, বকছে বকুক!

তুমি পাখা মেলতে,
মাঠের আলপথে,
বুড়ো সাইকেলের পিঠে চড়ে,
দিগন্তে মিশতে মিশতে…
সব্জিওয়ালার সাথে খোশগল্পে,
বা মুখে মুখে গল্প বানাতে,
গ্রামার শেখাতে কখনও…
তখন চোখে মুখে অন্য আলো,
অন্য বাবা পুরো!
চিনতে পারতাম না, কেমন যেন।

লাইব্রেরি ঘরটা তোমার সংসার,
বাকিটা মায়ের..
এভাবেই কাটিয়ে দিলে কতটা সময়,
সুন্দর বিপরীত সহাবস্থান।
সহজ সরল নির্বিরোধী
সাধারণ বাবা আমার…

একটা সন্ধ‍্যের কথা
আজও মনে আছে, জানো..
দিদি তখন সবে কলেজ,
আমি ক্লাস টুয়েলভ্
পাড়ার রকে আড্ডা বসত
খুব, যত মায়ে খেদানো, বাপে তাড়ানো
দল বেঁধে হুজ্জোতি,
সন্ধ‍্যে নামলে আরো বেশি,
বেশি করে অশ্লীল।
ফিরছি আমরা দেওয়াল ঘেঁষে,
পাশ থেকে হোহো, খিস্তি খেউড়
হঠাৎ কাছে বোম ফাটল যেন,
সবাই চুপ!
দেখি কখন যেন আমার বাবা,
পাশে পক্ষীরাজ, চড় মেরেছে সপাটে
অশিক্ষার গালে, চিতিয়ে বুক।
জ্বলছে শ্বাপদচোখ..

সেদিনও,
চোখে মুখে অন্য আলো,
অন্য লোক পুরো,
চিনতে পারিনি, কেমন যেন…

সেই ভীতু লোকটা
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments