বৈশাখের গনগনে দুপুরে
অপুর একটা তেঁতুলতলা ছিল,
ঠান্ডা ঝিরঝিরে পাতাগুলো তাকে ছুঁয়ে
বইত নৈঋত কোণে।

পৌষশেষের সকালে ছিল
রোদ খেতে দেওয়া একটা লাল লেপ,
মিঠে রোদে সালোকসংশ্লেষ,
আরাম-ঘুম দিত
আচার-বয়াম, বড়িদের সাথে।

আষাঢ় মাসের প্রথম দিনে
খালবিলের কৈ যখন রাস্তা সাঁতরায়,
কালবৈশাখীতে ছাতা ভাসিয়ে
কাকভিজে ঘরে ফেরে অপু।

আবার মেলা বসেছে আশ্বিনের মাঠে
রঙিন জামাটা ঘুরছে গোল গোল
নাগরদোলার ছাতে, রাস্তাঘাটে
ধুলোবালি, মাটির পুতুল…

বারোমাসে বারোয়ারি দীঘি ছিল,
পানকৌড়ির মত ডুবত, ভাসত
একডিঙি পদ্ম সেজে উঠত
শুধু সে দেখবে বলেই।

আমবাগানও ছিল একটা আদিগন্ত
টুপটাপ ঝড়ে শিলাবৃষ্টির মত
ভরে যেত হাত, হৃদয়…

হেমন্তের ঘন কুয়াশা যখন
ভয় দেখাতো, একটা আঁচল ছিল
নুন হলুদের সাথে
লন্ঠনের টিমটিমে গন্ধ,
কাঠের আগুনের ওম মেখে।

সবাই আছে এখনও,
হয়ত অন্য মাত্রায় কোনও,
অংক কষে বের করে ফেলবে ঠিক,
হারানো যা কিছু,
যা শুধু তারই…

***

সিঁড়িভাঙা
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments