আমরা বলি, সুপ্রিয়াকে কাছ থেকে দেখেছি।
কতখানি কাছে যাওয়া যায় একজনের?
আকাশ যতখানি নুয়ে পড়ে দ‍্যাখে,
জল যতখানি ছুঁয়ে থাকে,
মাটি যতটা ধরে রাখে,
ততটা আর পারলাম কই?
আমরা বললাম, সুপ্রিয়াকে ছোট্ট থেকে বড় হতে দেখলাম।
ওর মেয়েবেলা বুঝলাম কি?
পাড়ার ছেলেদের সাথে ঢলাঢলি বড়,
তখন থেকেই আমরা সবাই সবকিছু জানি।
গেল হপ্তায় সুপ্রিয়া পরিবারের মুখ ডুবিয়েছে।
কোথায় ডুবল কে, কেই বা ভেসে গেল,
তার খবরে আমাদের দরকার নেই।
দূর থেকে দুয়ো দিতে যতটা পারি,
হাঁসের মত নিয়ে নেবো ঠিক ততটুকুই।
যে মেয়ে বাপ মরতে কাঁদেনি একটুও,
তার থেকে বেশি আশাও অন‍্যায়।
কাকারা খুব সুখে রেখেছিল,
এইতো গেল পুজোয় একটা তাঁতের শাড়ি,
সেই শাড়ি পরেই কিনা বাড়ি ছাড়ল!
আরো কি কি নিয়েছে সাথে,
কাকীরা খুঁজছে দিনরাত।
আমরা বলেছি, দেখো, পেট বাঁধিয়ে ঠিক ফেরত আসবে,
হেসে উঠেছি নিজেদের রসিকতায়,
পেটে ভাত না পড়লে ভালোবাসা ভাগলবা,
মিলিয়ে নিয়ো!
এত কথার মাঝে কথা হারিয়ে যায়,
সমুদ্র গর্জন যেন।
সুপ্রিয়া পাড়ে ফেরে না,
সাঁতার কাটে গলাজলে।
তীর থেকে অনেকদূরে চলে গেছে,
ফেনার মাথায় বিন্দু যেন।

সব হট্টগোলের মাঝে,
সুপ্রিয়ার মা সুধাই একমাত্র শান্ত, চুপচাপ;
একমনে রান্নাঘরে ডাল চাপায়,
সম্বর দিয়ে।

সুধার দিনকাল
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments