Image result for driverless car

Technology যেন সমুদ্রের মতোই যতটা নেয়, ততটাই ফিরিয়ে দেয়। কথা-টা হয়তো সম্পূর্ণ ঠিক নয়; প্রযুক্তিকে ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। কিন্তু কিছুটা তো ঠিক অবশ্যই। তাকানো যাক আজ থেকে মোটামুটি ১০ বছর আগের দিনগুলোয় বাংলার সংগীতজগৎ-এর দিকে। খুব সঙ্গীন অবস্থা। এখন যে খুব ভালো অবস্থায় আছে, তা নয়। তবে এখনকার থেকে তখন অবস্থা আরো খারাপ ছিল। MP3-এর ব্যবহার ততদিনে আমরা সকলে জেনে গেছি। ফলে Music CD আর প্রায় বিক্রিই হচ্ছে না। বাংলা ব্যান্ড যদিও ভীষণ পপুলার। private radio channel গুলো কিছুটা চেষ্টা করছে বাংলা গান বাঁচিয়ে রাখার জন্য। কিন্তু রেডিওগুলো বিভিন্ন অভিনব প্রক্রিয়ায় চেষ্টা করলেও, CD-এর কাটতি বাড়াতে পারছেন না।

Cut-to আজকের যুগ। CD ব্যাপারটাই প্রায় উঠে গেছে। পার্ক স্ট্রিটের Music World বন্ধ হয়ে গেল। YouTube, Spotify, Saavn, Gaana, Google Play Music – এসব চলে এলো। MP3 যে এখনো নেই তা নয়, এখনো যে পাইরেসি হচ্ছে না, তা নয়। কিন্তু একটা অল্টারনেটিভ রাস্তা খুঁজে পাওয়া গেছে। আজকালকার গানগুলো সব থাকছে কোনো এক সার্ভারে। সেখান থেকে সবাই download করে শুনছেন। শিল্পীও তার পয়সা পাচ্ছে, আর কিছু advertisement-এর নূন্যতম বিরক্তি সহ্য করে, আমরাও বিনামূল্যে গান শুনতে পারছি। বা কিছু টাকার বিনিময়ে সেই বিজ্ঞাপনের বিরক্তিও দূর করা সম্ভবপর হচ্ছে। 

কিন্তু এতে আবার একটা নতুন সমস্যা তৈরী করেছে – এই যে শিল্পী আর শ্রোতার মধ্যিখানের কোম্পানিগুলি – এগুলো নাকি শিল্পীদের ন্যায্য দাম দিচ্ছেন না। এক উঠতি ব্যান্ডের গিটারিস্টের সাথে কথা হচ্ছিলো প্রযুক্তির পীঠস্থানে, মানে এই খোদ আমেরিকায়। তাদের বক্তব্য Spotify-এর মতো বড় বড় কোম্পানি যে পরিমান income-এর স্বপ্ন দেখে বা already যা income করছে, তার খুব সামান্যই musician-রা পান। Google-এর বিরুদ্ধেও এই অভিযোগ উঠেছে YouTube-কে নিয়ে। যাই হোক, আপাতত এটা মনে রাখা যাক, এই মধ্যিখানের কোম্পানিগুলোর ভূমিকা সামান্য ঝাপসা…

এবার একটু অন্য দিকে চোখ রাখা যাক। কিছু বছর আগের কথা, তখন আমি প্রাইভেট সার্ভিসেস কোম্পানির ঘানি টানছি কলকাতায়। মাস গেলে মাইনে পাচ্ছি, যদিও সন্তুষ্টি অধরা। এই সময় অনেক ধরণের নতুন চিন্তা মাথায় আসতো। সেই idea-গুলোই আমার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে নিতাম, যাদের সাথে আবার ফ্ল্যাটও শেয়ার করতাম।

এর মধ্যে একটা সমস্যা যেটা মনে হয়েছিল – সেটা হল, এই যে এতো ট্যাক্সি আমাদের শহরে ঘোরাফেরা করে, অনেক সময়ই ফাঁকায়, বিনা যাত্রীতে এদিক-ওদিক যায়। সেই ট্যাক্সিগুলোতে যদি একটি GPS device বসিয়ে centrally control করা যেত, তাহলে অনেক তেল আর সময় বাঁচানো যেত। জানি কি ভাবছেন। এটাই তো এখন Uber, Ola বা Lyft করে। আর আমার দাবি এই যে, Uber-এর আগেই আমি এই ভাবনাটা ভেবে ফেলেছিলাম? না আদৌ, তা নয়। এটা আমার মতো হয়তো অনেকেই ভেবেছিলো। Uber সেটা করে দেখিয়েছে। Information Technology-তে ভাবনার খুব একটা কোনো মূল্য নেই (আমার যে বন্ধুটিকে বলেছিলাম সে তো বলেছিলো যে এসব ট্যাক্সিওলাদের সাথে কোনোরকম deal করাটাই চাপের) 

যাই হোক, আমার idea-টার আরও একটা part ছিল। আমি ভেবেছিলাম যখন একটা Software বানানো হয়ে যাবে এই idea-টা দিয়ে, তখন সেটাকে Government-এর কাছে বেচে দেব। কারণ খুব স্বাভাবিকভাবেই, Software তৈরী হয়ে যাওয়ার পর ওটায় আমার আর কোনো ভূমিকা দেখিনি। এবং এখানেই লুকিয়ে আছে পরের ব্যাপারটা। 

Uber ঠিক করছেটা কি? কেউ তার নিজের গাড়ি চালাচ্ছে। আমরা সেইসব গাড়িতে চড়ছি। যে গাড়ি চালাচ্ছে, সে তার প্রতিদানে কিছু পাবে, সেটাই স্বাভাবিক। আমি গাড়ি চড়ছি, তাই আমি গাড়ির চালক ও মালিককে কিছু টাকা দেব, সেটাও স্বাভাবিক। কিন্তু Uber? সে কি করছে? সে Software-এর মাধ্যমে গাড়ি আর তার সওয়ারীকে connect করছে। কিন্তু Software যখন তৈরী হয়ে গেলো, তারপর সেটা maintain করার *প্রকৃত* খরচ তো খুবই সামান্য। এই maintenance cost-এর ব্যাপারটা সমস্ত Software Engineer-দেরই জানা। এবং আজকাল প্রযুক্তি এতটাই উন্নতির জায়গায় চলে যাচ্ছে, যে একটা computer নিজেই তার fault বুঝতে পেরে, তাকে সারিয়ে নেবার প্রাথমিক পদ্দক্ষেপগুলো নিয়ে নিতে পারছে। মানুষের সহযোগীতা খুব কমই দরকার হচ্ছে। এই automated fault resolution নিয়ে এখন অনেক গবেষণাও হচ্ছে। সুতরাং, maintenance cost আরো কমবে ভবিষ্যতে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। 

তাহলে এবার প্রশ্ন: Uber-কে আমি কি জন্য টাকা দেব? বা Uber-এর এই গাড়ির মধ্যস্থতা করার জন্য আলাদা করে আদৌ অস্তিত্বের কি প্রয়োজন আছে? কোনো Government-ই তো এটা operate করতে পারে। বরং Government-এর আরো সুবিধে আছে। গাড়ি চালকের বৈধতা, কোনো দুর্ঘটনা-জনিত সমস্যা – এ জাতীয় যাবতীয় জটিলতা (আজকাল পেপারেও দেখা যায়) মেটানোর ব্যাপারে Uber-এর মতো প্রাইভেট কোম্পানিগুলোর থেকে আমাদের সরকার অনেক বেশি সক্ষম এবং উপযুক্ত।

এবার একটা প্যাটার্ন ধরার চেষ্টা করা যাক। গানের জগতের Spotify, গাড়ির জগতের Uber, অথবা এরোপ্লেন বুক করার Yatra.com বা ঘুরতে গিয়ে বাড়িঘর বুক করার AirBnB – এই সমস্ত সংস্থাগুলো শুধুমাত্র একটা ব্রিজের ভূমিকা নিচ্ছে – পরিষেবা যে দেবে আর যে পাবে – তাদের মধ্যে। কিন্তু ক্রেতা এবং বিক্রেতা দুজনেই এই সংস্থাগুলোকে আলাদা করে টাকা দিচ্ছে। Uber যখন আপনি চড়েন, তখন Uber একটা charge কেটে নেয় আপনার থেকে, তার নিজের জন্য। আবার Uber-চালক আপনাকে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যে টাকা পান, তার একটা অংশ Uber-কে দেন (আসলে procedure-টা আরো জটিল, কিন্তু মোটের উপর এটাই)। তাহলে আপনি বা গাড়ির চালক Uber-কে টাকাটা দিচ্ছেন কেন? শুধুমাত্র কোনোকালে তারা একটি Software তৈরি করেছিল বলে, মূলত তাই তো?

প্রযুক্তির বিষয়ে মূল প্রশ্নটা এখন এখানেই। প্রযুক্তি তো আমাদের নিরন্তর দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রযুক্তির মালিকানাটা ঠিক কার হাতে? Uber, Spotify-এর Software-গুলো তৈরী করেছে আপনার-আমাদের মতোই হাজার হাজার Software Engineer-রা। কিন্তু কিছুদিন পর থেকেই Uber-এর আর দরকার হবে না এইসব Software Engineer-দের। কারণ তারা তো already Software-টা তৈরি করেই ফেলেছে। কিন্তু তাদের তৈরী করা এই Uber কিন্তু থেকে যাবে, আর তার মুনাফা পকেটস্থ করবে Uber-এর মালিকানা যাদের আছে, সেই গুটিকতক মানুষ।

এই নিয়ে খুব সচেতনভাবে ভাবা দরকার – প্রযুক্তির যে অসম্ভব প্রগতি আর তার যে দানগুলো আমরা সমাজে প্রকটভাবে দেখতে পাচ্ছি – সেটা আমরা কাদের হাতে ছেড়ে দেব! ভীষণ অদ্ভুত ব্যাপারটা হলো – এ নিয়ে যাদের সব থেকে বেশি কথা বলা দরকার – সেই বামপন্থী সংগঠনগুলো এই পরিবর্তনটা ধরতেই পারেননি ঠিক করে। পরবর্তী জামানাটা যে শুধুমাত্র এক তথ্যভিত্তিক জামানা হতে চলেছে – যে ব্যাপারে তারা পুরোপুরি উদাসীন। তথ্যের মালিকানা যার, আগামী সময়টাও তারই – এই নিয়ে বেশিরভাগ বামপন্থী সংগঠনগুলো কিছু বলে না। শুধুমাত্র সামান্য কিছু প্রগতিশীল, বামপন্থী নিউজপেপার এই নিয়ে একটু লেখালিখি করে। 

এই বিষয়টা গুরুত্ত্বপূর্ণ হওয়ার আর একটা বড় কারণ আছে। আমরা ভীষণ দ্রুতভাবে সেই যুগটায় যেতে চলেছি – যখন আমাদের বেশিরভাগ কাজ automated হয়ে যাবে। মনে হতে পারে এটা কোনো science fiction – কিন্তু একটু প্রযুক্তির খোঁজখবর নিলেই বুঝতে পারবেন – আর কিছুদিন পর থেকেই আমাদের নিজেদের দৈনন্দিন কাজগুলো করার জন্য মানুষের সহযোগিতার আর প্রয়োজন হবেনা। কোনো artificially intelligent agent আমাদের সাহায্য করে দেবে। 

ধরুন, একটা সারা দিনের কিছু কাজের কথা। সকালে উঠে আপনি ব্রেকফাস্ট করলেন, toaster-এ তৈরী করা ব্রেড আর জ্যাম দিয়ে। এর পর আপনি স্নানে যাওয়ার সময় Alexa (Amazon-এর voice assistant)-কে বলে দিলেন ১৫ মিনিট পরে একটা Uber ডেকে দিতে। Uber একটা driverless car পাঠিয়ে দিল (যা এখন ক্যালিফোর্নিয়া আর পিটসবার্গে already রাস্তায় commercially চলছে). আপনি অফিসে এসে দেখলেন computer আপনার সব কাজ এগিয়ে রেখেছে, আপনি শুধু একটু approve করে দিলেন কাজগুলো। তারপর আপনি ভাবতে শুরু করলেন যে নতুন, innovative আর কি করা যেতে পারে। ইতিমধ্যে বাড়ি ফেরার সময় এলো। আপনি অফিসে রাখা Alexa-কে বললেন বাড়ি ফেরার রাস্তায় Amazon Store-এ আপনার জন্য ১ কেজি চিকেন রেডি রাখতে। Amazon তার Robot দিয়ে সেটা রেডি রাখলো। আপনি চালকবিহীন Uber-করে বাড়ি ফেরার সময় Amazon Store থেকে টুক করে চিকেন তুলে আনলেন। বাড়ি এসে আপনার জামাকাপড় ধোওয়া এবং শুকোনোর জন্য Washing Machine-এ দিয়ে দিলেন। তারপর মুরগির মাংস দিয়ে জমিয়ে ডিনার সারলেন। এরপর ঘুমোতে যাওয়ার সময় Google Assistant-কে বললেন আপনার মোবাইলে সকাল ৭টার আল্যার্ম দিতে। খুব অকল্পনীয় ঘটনা কিন্তু নয়, কারণ প্রায় প্রত্যেকটা product মার্কেটে already পাওয়া যাচ্ছে।

এই artificial intelligence-কে যদি আমরা মুষ্টিমেয় কিছু লোকের হাতে ছেড়ে দিই, তাহলে মুনাফাটাও ক্রমশ জড়ো হবে সেই লোকগুলোর সিন্দুকেই। গরিব আর ধনীর মধ্যে তফাৎ যেভাবে এখন অশ্লীলভাবে বেড়ে চলেছে – এটা থামানো সম্ভব হবে না।

তাই সমাজের শিক্ষিত অংশ – মানে যারা এই প্রযুক্তির সুফলটা প্রথমেই পাচ্ছে আর যাদের আমার এই লেখাটা পড়ার সম্ভাবনা আছে – তাদের ভাবা দরকার প্রযুক্তিটা কাদের দখলে থাকা উচিত? যারা Software-গুলো তৈরী করছেন, সেই সকল মানুষ এবং জনগণের? নাকি কিছুসংখ্যক ভাগ্যবান লোকের দখলে? যারা প্রযুক্তিটাকে টাকা ছাপাবার মেশিন হিসেবে ব্যবহার করবে? ভাবনার দায়িত্ব আমাদের সকলের।

প্রযুক্তি ও তার ভবিষ্যৎ
  • 4.00 / 5 5
2 votes, 4.00 avg. rating (80% score)

Comments

comments