শীতের মিঠে রোদে পুরোনো শরীর টাকে শুকোচ্ছে ঊর্মিমালা…
কত বসন্ত পার হল, হিসেব রাখেনি কেউ।
পরিশ্রম, অভিজ্ঞতা শুধু মুখের ভাঁজে চিহ্ন ফেলেছে…
এখন গতজন্মের কথাগুলো ভিড় করে আসে মনে,
কালকের ঘটনা ভুলে যায় ক্ষণে ক্ষণে…

গতজন্মই তো!
কবে বাবার হাত ধরে যেত তিনকালীর মেলাতে,
কবে মায়ের মার, ফেলেছিল কালশিটে পিঠে…
সে কি আজকের কথা?
সাল, মাস, দিন তো ক্যালেণ্ডারের পাতায়,
ওসব দিয়ে কি আর জীবন বোনা যায়!

অথচ এখনো চোখ বুজলে দেখতে পায় সেদিন…
যেদিন ছাদনাতলায় সলাজ চোখ, ঘোমটার আড়াল থেকে শুভদৃষ্টি, অমিতের সাথে।
বাবার বন্ধুর একমাত্র ছেলে, বাবা মারা যাওয়ায়
অঢেল ভিটেমাটি চাষজমি নিয়েও, সে শিকড় হারায়।
কালীশংকরের জহুরী চোখ চিনতে ভুল করেনি,
ঘরজামাই করে উমার ভাগ্য লিখলেন নিজের খেয়ালে।
পড়াশোনার পাট চুকল…
মেয়েদের গেরস্থালী সব,
লেখাপড়া শিখে হাতি ঘোড়া হয়েছে কোনকালে?

মনে আছে, সেই প্রথম দেশ ঘোরার কথা – অমিতের সাথে,
হাজারীবাগ…
স্বপ্ন, না সত্যি ছিল দিনগুলো?
এতদিন বাদে, আলাদা করে মনে পড়ে না আর,
সব তালগোল পাকিয়ে যায় আগে পরের স্মৃতি…
ছোটমেয়ে বাড়ী থেকে পালিয়ে বিয়ে করল যেদিন,
অমিতের থমথমে চোখ, রাগে দুঃখে মরতে চাওয়া গিয়ে,
ঘর অন্ধকার করে, একসাথে কেঁদেছিল জড়িয়ে…

দেখেছো, এ তো সেদিনের কথা!
তার আগে আরও কত কি…
পরপর চারটে মেয়ে, তাদের দেখতে দেখতে বড় হয়ে ওঠা,
দিনরাত এক করে ভাইবউ এর সংসারে গাধার খাটুনি,
নিজের ভেবেই করেছে, কিন্তু সবাই ভাবল কি?
মেয়েরা নিজের নয়, অমিত ও ছিল না আর, পরে…
মারণরোগ এসে নিয়ে গেল অচেনা মানুষ টাকে, বছর ঘোরে।
কে আর কার এখন, এ চরাচরে…!

পা কি পিছলোয় নি তার, একবারও?
কেউ না জানুক, উমা তো জানে…
অমিতের বন্ধু নিখিলেশ, তার সেই নীল চোখ
সাড়া না দিয়ে পারে নি সে ডাকে।
অলস দুপুরের রোদ যখন বন্ধ দরজায় আলপনা কাটছে,
বড় মেয়েটা স্কুল থেকে ফিরে, মা কে না পেয়ে যখন,
মামীমার কোলে ঘুমিয়ে পড়েছে…
তখন ঊর্মিমালার খোলা পিঠে কার হাত খেলা করে যায়!

সে ও আগের জন্মের পাপ,
মনে রাখতে নেই আর।
তবুও ফিরে ফিরে আসে – পাপ, পূণ্য, মায়া হাজার

শীতের রোদের মতো…

ঊর্মিমালা
  • 0.00 / 5 5
0 votes, 0.00 avg. rating (0% score)

Comments

comments