মাটির সুপ্তিবন্ধন হতে আনন্দ পায় ছাড়া— ঝলকে ঝলকে পাতায় পাতায় ছুটে এসে দেয় নাড়া। বিস্তারিত
দিন হয়ে গেল গত। শুনিতেছি বসে নীরব আঁধারে আঘাত করিছে হৃদয়দুয়ারে দূর প্রভাতের ঘরে-ফিরে আসা... বিস্তারিত
চাহিয়া প্রভাতরবির নয়নে গোলাপ উঠিল ফুটে। ‘রাখিব তোমায় চিরকাল মনে’ বলিয়া পড়িল টুটে। বিস্তারিত
আকাশে তো আমি রাখি নাই মোর উড়িবার ইতিহাস। তবু, উড়েছিনু এই মোর উল্লাস। বিস্তারিত
লাজুক ছায়া বনের তলে আলোরে ভালোবাসে। পাতা সে কথা ফুলেরে বলে, ফুল তা শুনে হাসে। বিস্তারিত
পর্বতমালা আকাশের পানে চাহিয়া না কহে কথা— অগমের লাগি ওরা ধরণীর স্তম্ভিত ব্যাকুলতা। বিস্তারিত
ভিক্ষুবেশে দ্বারে তার ‘দাও’ বলি দাঁড়ালে দেবতা মানুষ সহসা পায় আপনার ঐশ্বর্যবারতা। বিস্তারিত
অসীম আকাশ শূন্য প্রসারি রাখে, হোথায় পৃথিবী মনে মনে তার অমরার ছবি আঁকে। বিস্তারিত
ফুলগুলি যেন কথা, পাতাগুলি যেন চারি দিকে তার পুঞ্জিত নীরবতা। বিস্তারিত
পথের প্রান্তে আমার তীর্থ নয়, পথের দু ধারে আছে মোর দেবালয়। বিস্তারিত
সূর্যাস্তের রঙে রাঙা ধরা যেন পরিণত ফল, আঁধার রজনী তারে ছিঁড়িতে বাড়ায় করতল। বিস্তারিত
ফুরাইলে দিবসের পালা আকাশ সূর্যেরে জপে লয়ে তারকার জপমালা। বিস্তারিত
দিন দেয় তার সোনার বীণা নীরব তারার করে— চিরদিবসের সুর বাঁধিবার তরে। বিস্তারিত
সূর্য-পানে চেয়ে ভাবে মল্লিকামুকুল, ‘কখন ফুটিবে মোর অত বড়ো ফুল!’ বিস্তারিত
চেয়ে দেখি হোথা তব জানালায় স্তিমিত প্রদীপখানি নিবিড় রাতের নিভৃত বীণায় কী বাজায় কিবা জানি। বিস্তারিত
উতল সাগরের অধীর ক্রন্দন নীরব আকাশের মাগিছে চুম্বন। বিস্তারিত
সমস্ত-আকাশ-ভরা আলোর মহিমা তৃণের শিশির-মাঝে খোঁজে নিজ সীমা। বিস্তারিত
প্রেমের আনন্দ থাকে শুধু স্বল্পক্ষণ। প্রেমের বেদনা থাকে সমস্ত জীবন। বিস্তারিত
বসন্ত পাঠায় দূত রহিয়া রহিয়া যে কাল গিয়েছে তার নিশ্বাস বহিয়া। বিস্তারিত
কোন্ খসে-পড়া তারা মোর প্রাণে এসে খুলে দিল আজ সুরের অশ্রুধারা। বিস্তারিত
